আমাদের মাদরাসা সম্পর্কে কিছু কথা

আমাদের মাদরাসা সম্পর্কে কিছু কথা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্য, যিনি মানবজাতিকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করেছেন এবং দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মানবতার মুক্তির দিশারী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর উপর।

ইলমে দ্বীন মানবজীবনের প্রকৃত পথনির্দেশক। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর প্রিয় নবী ﷺ-এর উপর সর্বপ্রথম যে ওহি নাযিল করেছেন, তা ছিল— “ইকরা’ (পড়ুন)”। এর মাধ্যমে আল্লাহ আমাদেরকে শিক্ষা ও জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন— নারী-পুরুষ সকলের উপর ইলমে দ্বীন শিক্ষা করা ফরজ

বর্তমান যুগে ঈমান-আকীদা ও চরিত্র রক্ষার জন্য কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক শিক্ষার বিকল্প নেই। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে উত্তরা তাহফিজুল কুরআন মডেল মাদ্রাসা একটি আদর্শ ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে যোগ্য, নৈতিক ও আল্লাহভীরু প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

আমাদের এ প্রতিষ্ঠানে নূরানী মক্তব থেকে শুরু করে নাযেরা, হিফজুল কুরআন এবং সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হয়। অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল শিক্ষকমণ্ডলী, নিরাপদ পরিবেশ এবং নিয়মতান্ত্রিক তত্ত্বাবধানে আমরা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে আন্তরিকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

আমি অভিভাবকবৃন্দের প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি—আপনাদের আদরের সন্তানদের সঠিক দ্বীনি শিক্ষা ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে আমাদের প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত করুন।

আল্লাহ তা‘আলা যেন আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে কবুল করেন এবং এ প্রতিষ্ঠানকে দ্বীনের খেদমতে কবুলযোগ্য মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেন।
আমিন।

মুহতামিম
উত্তরা তাহফিজুল কুরআন মডেল মাদ্রাসা

উদ্দেশ্য :

আল্লাহ প্রদত্ত ইলম অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহ তা’য়ালার সন্তুষ্টি অর্জন।

লক্ষ্য :

(ক) মহিলাদের মধ্যে ইসলামী শিক্ষার সম্প্রসারণ ও বাস্তবায়ন।
(খ) পবিত্র কুরআন শিক্ষার ব্যাপক প্রচলন।
(গ) মহিলাদের শরয়ি পর্দায় উদ্ধুদ্ধকরণ।
(ঘ) কুরআন-সুন্নাহের আলোকে জীবন গড়ার প্রশিক্ষণ।
(ঙ) নিরক্ষরতা দূরীকরণ।
(চ) দেশের আর্ত সামাজিক উন্নয়ন ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা।
(ছ) মেয়েদের জন্য শরিয়তসম্মত পর্দার সাথে পৃথক ও সংরক্ষিত এলাকায় দ্বীনি শিক্ষার ব্যবস্থা করা।

সামাজিক উন্নয়ন :

(ক) এলাকার মহিলাদেরকে প্রতি সপ্তাহে মাদরাসা বা অন্য কোন স্থানে জমায়েত করে দ্বীনি বিষয়ে আলোচনা করা। বিশুদ্ধভাবে কুরআন শিক্ষা, নামাজ ও মাসায়েল শিক্ষাদান এবং মহিলাদের সমস্যা জেনে সমাধানের চেষ্টা কর।
(খ) অসচ্ছল, ইয়াতিম, বিধাব ও বয়োবৃদ্ধ নারী-পুরুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসা দানের ব্যবস্থা এবং সেবামূলক কাজ পরিচালনা করার জন্য একটি কল্যাণ-ফান্ড গড়ে তোলা। যার উৎস হবে যাকাত, সদকা, কুরবানির চামড়া, দান-খয়রাত বা এককালীন চাঁদা।
(গ) সমাজের প্রতিটি মানুষকে কুরআন সুন্নাহের অনুসারী হিসেবে এবং প্রতিটি পরিবারকে ইসলামের দূর্গ হিসেবে গড়ে তোলা।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা :

১/ ইফতা বিভাগ ২/ আরবি সাহিত্য বিভাগ ৩/ হিফজুর কুরআন বিভাগ
মহিলাদের ফিকহ শাস্ত্রে উচ্চতর শিক্ষার জন্য ইফতা বিভাগ, আরবী সাহিত্যে উচ্চতর শিক্ষার জন্য আদব বিভাগ, কুরআনের হাফেজা হওয়ার জন্য হিফজুল কুরআন বিভাগ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, সেলাই প্রশিক্ষন কোর্সসহ বহুমুখী টেকনিক্যাল ও কারিগরি বিভাগ চালু করার পরিকল্পনা আছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top